রাত হলেই চুলকানি শুরু হয়ে যায়? এমন চুলকানি যে ঘুমাতে গেলেই মনে হয় শরীরের প্রতিটা জায়গা অস্বস্তিতে ভরে গেছে, অথচ দিনের বেলায় তেমন সমস্যা নেই? আর তার সাথে যদি পরিবারের আরেকজনও একই কথা বলে থাকেন — তাহলে এটা সাধারণ অ্যালার্জি নাও হতে পারে। এখানেই অনেক সময় সামনে আসে স্কাবিস বা খোসপাঁচড়া।

স্কাবিস কী এবং রাতে চুলকানি কেন বাড়ে

স্কাবিস আসলে কোনো "অপরিষ্কার মানুষের রোগ" নয় — পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মানুষও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। খুব ছোট একটি পরজীবী মাইট ত্বকের উপরিভাগে ঢুকে গেলে এই সমস্যা হতে পারে। এই রোগের সবচেয়ে বিরক্তিকর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো চুলকানি রাতে বেশি অনুভূত হওয়া — মাইটের কার্যকলাপ ও শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ার কারণে রাতে চুলকানি বেশি তীব্র মনে হতে পারে। ফলে দিনের বেলায় মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বিছানায় যাওয়ার পর সমস্যাটা যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

যেসব লক্ষণ দেখে সন্দেহ করবেন

যদি এই লক্ষণগুলো মিলে যায়, তাহলে বিষয়টাকে শুধু অ্যালার্জি ধরে নিয়ে দিনের পর দিন ফেলে রাখা ঠিক নয়।

স্কাবিস কীভাবে ছড়ায়

স্কাবিস সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘসময় ঘনিষ্ঠ ত্বক-ত্বকের সংস্পর্শে ছড়ায়। একই বিছানায় ঘুমানো বা ঘনিষ্ঠভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়তে পারে। কখনও কখনও আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর বা তোয়ালের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে — বিশেষ করে দীর্ঘসময় বা ঘনিষ্ঠভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এ কারণেই পরিবারের একজনের স্কাবিস হলে শুধু তার চুলকানি কমানোর দিকে তাকালে সবসময় সমস্যার সমাধান হয় না — কাছের কারও মধ্যে সংক্রমণ থেকে গেলে বা চিকিৎসা সঠিকভাবে না হলে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার সময় ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি কীভাবে পরিষ্কার বা ব্যবহার করতে হবে, সেটাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা ভালো।

চিকিৎসায় যে ভুলটা প্রায়ই হয়

চুলকানি হচ্ছে দেখেই নিজের মতো করে একের পর এক ক্রিম ব্যবহার শুরু করে দেওয়া একটা সাধারণ ভুল — একটা ক্রিমে কাজ না হলে আরেকটা লাগানো, কয়েকদিন পর একটু কমলে ভাবা রোগ সেরে গেছে, আবার শুরু হলে নতুন কিছু ব্যবহার করা। কিন্তু সমস্যা হলো, সব চুলকানি স্কাবিস নয় — অ্যালার্জি, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশনসহ আরও অনেক কারণেই চুলকানি হতে পারে। তাই শুধু চুলকানি দেখে নিজে নিজে রোগের নাম ঠিক করে ফেলা ঠিক নয়। স্কাবিসের চিকিৎসাতেও শুধু "চুলকানি কমানো" আর "রোগের কারণ দূর করা" — এই দুটো বিষয় এক নয়, এই পার্থক্যটাই অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারেন না।

একটা ভুল ধারণা ভাঙা যাক

"খোসপাঁচড়া হয়েছে মানে নিশ্চয়ই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিক নেই" — এই ধারণাটা ঠিক নয়। স্কাবিস যেকোনো মানুষের হতে পারে। তাই কারও স্কাবিস হলে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা, দূরে সরিয়ে দেওয়া বা লজ্জা দেওয়া উচিত নয়; বরং দ্রুত সঠিক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও খেয়াল করা দরকার, কারণ তারা অনেক সময় চুলকানির বিষয়টা ঠিকভাবে বলতে পারে না। ঘুমের মধ্যে বারবার চুলকানো, ত্বকে দানা, বা পরিবারের অন্যদের একই ধরনের সমস্যা লক্ষ করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

নিচের যেকোনো একটি পরিস্থিতিতে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো:

কারণ স্কাবিসের লক্ষণ অন্য কিছু ত্বকের সমস্যার সঙ্গেও মিলে যেতে পারে। সঠিক কারণ জানা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়। শরীরে চুলকানি হলে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, আবার "এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে" ভেবে মাসের পর মাস সহ্য করাও ঠিক নয় — কারণ যে সমস্যাটা ছোট মনে হচ্ছে, সেটাই পরিবারের আরও কয়েকজনের ঘুম নষ্ট করার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।