বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি বেড়ে যায়, ফলে এই সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপও বেড়ে যায়। শেরপুরের মতো এলাকাতেও প্রতি বছর বর্ষায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। লক্ষণ আগে থেকে চিনে রাখলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়, যা জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে।

ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ লক্ষণ

বিপদচিহ্ন — যেগুলো দেখলে দেরি করা যাবে না

নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত, কারণ এগুলো ডেঙ্গুর জটিল রূপের ইঙ্গিত হতে পারে:

ঘরে থাকাকালীন করণীয়

ডেঙ্গু নিশ্চিত হলে বা সন্দেহ হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং তরল খাবার (পানি, স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস) বেশি করে গ্রহণ করুন। জ্বর মাপার জন্য নিয়মিত থার্মোমিটার ব্যবহার করুন এবং প্লাটিলেট পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করান। কোন ওষুধ খাবেন তা নিজে থেকে ঠিক না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন, কারণ কিছু সাধারণ ব্যথা-জ্বরের ওষুধ ডেঙ্গুতে ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার করা এবং সন্ধ্যার সময় শরীর ঢেকে রাখা ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র বা ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দিন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে, যা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, বা কোনো পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সপ্তাহে অন্তত একবার এই জায়গাগুলো পরিষ্কার করুন। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন এবং দিনের বেলাও পূর্ণ হাতা-পায়ের কাপড় পরার চেষ্টা করুন, বিশেষ করে ডেঙ্গু মৌসুমে (বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে)।

প্লেটলেট কমে গেলে করণীয়

ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমে যাওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ, তবে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটি পর্যবেক্ষণ জরুরি। পেটে ব্যথা, বারবার বমি, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, বা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে এটি সতর্কতা চিহ্ন (Warning Sign) — দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত। পর্যাপ্ত তরল খাওয়া ও বিশ্রাম নেওয়া পুরো সময়টায় গুরুত্বপূর্ণ।